প্রচলিত 'শবে বরাত' আমরা কেন পালন করব না???? ********************************************************************** 'শবে বরাত' এর অর্থঃ 'শব' একটি ফারসী শব্দ এর অর্থ রাত। আর 'বারাআত' অর্থ মুক্তি। শবে বরাত এর অর্থ দাড়ায় মুক্তির রজনী । শবে বরাত যারা পালন করেন তারা শবে বরাত সম্পর্কে যে সকল ধারণা পোষণ করেন এবং এ রাত উপলক্ষে যে সকল কাজ করে থাকেন তার কিছু নিম্নে উল্লেখ করা হলঃ তারা বিশ্বাস করে যে- >>>>শবে বরাতে আল্লাহ তা'আলা সকল প্রাণীর এক বছরের খাওয়া দাওয়া বরাদ্দ করে থাকেন। অর্থাৎ এই রাতে রিজিক লিল্পবদ্ধ করা হয়। >>>>এই বছর যারা মারা যাবে ও যারা জন্ম নিবে তাদের তালিকা তৈরী করা হয়। >>>>এ রাতে বান্দার পাপ ক্ষমা করা হয়। >>>>এ রাতে ইবাদাত-বন্দেগী করলে সৌভাগ্য অর্জিত হয়। >>>>এ রাতে গোসল করাকে সওয়াবের কাজ মনে করা হয়। >>>>মৃত ব্যক্তিদের রূহ এ রাতে দুনিয়ায় তাদের সাবেক গৃহে আসে। >>>>এ রাতে হালুয়া রুটি তৈরী করে নিজেরা খায় ও অন্যকে দেয়া হয়। >>>>বাড়ীতে বাড়ীতে এমনকি মসজিদে মসজিদেও মীলাদ পড়া হয়। >>>>পরের দিন সিয়াম (রোযা) পালন করা হয়। >>>>কবরস্থানগুলো আগরবাতি ও মোমবাতি দিয়ে সজ্জিত করা হয়। লোকজন দলে দলে কবরস্থানে যায়। >>>>শেষ রাতে সমবেত হয়ে দু'আ-মুনাজাত করা হয়। >>>>সারা রাত নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে ১২ কিংবা ১০০ রাকাত, হাজার রাকাত ইত্যাদি সালাত আদায় করা হয়, কুরআন তিলাওয়াত করা হয়। ইত্যাদি…… ***************************************************************** স্থান, কাল, পাত্রভেদে শবে বরাতের আকিদা ও আমলের পার্থক্যঃ শবে বরাত সম্পর্কে উপরোল্লিখিত কাজ ও আকীদাহসমূহ শবে বরাত উদযাপনকারীরা সকলেই করেন তা কিন্তু নয়। কেউ কেউ আছেন উল্লিখিত সকল কাজের সাথে একমত পোষণ করেন। আবার কেউ কিছু কিছু কাজের সাথে একমত পোষণ করেন। যেমন- কেউ কেউ আতশবাযী, আলোক সজ্জা পছন্দ করেন না, কিন্তু কবরস্থানে যাওয়া, হালুয়া-রুটি, ইবাদাত-বন্দেগী করে থাকেন। আবার অনেকে আছেন যারা এ রাতে শুধু সালাত আদায় করেন ও পরের দিন সিয়াম (রোযা) পালন করেন। আবার বিশ্বাসের ক্ষেত্রেও ভিন্নতা রয়েছে। যেমন কেউ কেউ এ রাতে কুরআন নাজিল হয়েছে এটা বিশ্বাস করেন না কিন্তু এ রাতে আল্লাহ তা'আলা সকল প্রাণীর এক বছরের খাওয়া দাওয়া বরাদ্দ করে থাকেন। অর্থাৎ এই রাতে রিজিক লিল্পবদ্ধ করা হয় এটা বিশ্বাস করেন। এই প্রচলিত আমল গুলোর মধ্যে কিছু কিছু আমল ভাল তবে ভ্রান্ত বিশ্বাসের কারনে ঐ আমল গুলো বিদাআতে পরিনত হয়েছে। যেমন সারা রাত সালাত আদায় করা একটি ভাল কাজ কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে এই ভাল কাজটি শুধু এ রাতে নির্দিষ্ট করে করা কতটুকু জায়েজ? ********************************************************************* কুরআন ও হাদীসের আলোকে শবে বরাতঃ আল-কুরআনে শবে বরাতের ব্যাপারে কোন কথা উল্লেখ নেই । শবে বরাত বলুন আর লাইলাতুল বারায়াত বলুন কোন আকৃতিতে শব্দটি কুরআন মাজীদে খুজে পাবেন না। সরাসরি তো দূরের কথা আকার ইংগিতেও নেই। শবে বরাত নামটি হাদীসেরও কোথাও উল্লেখ হয়নি সত্যিই হাদীসের কোথাও আপনি শবে বরাত বা লাইলাতুল বারাআত নামের কোন রাতের নাম খুজে পাবেন না। যে সকল হাদীস এ রাতকে প্রমাণ করার জন্য বলা হয়ে থাকে তার ভাষা হল 'লাইলাতুন নিস্ফ মিন শাবান' অর্থাৎ মধ্য শাবানের রাত্রি। শবে বরাত বা লাইলাতুল বারাআত শব্দ আল-কুরআনে নেই, হাদীসে রাসূলেও নেই। এটা মানুষের বানানো একটা শব্দ। ভাবলে অবাক লাগে যে, একটি প্রথা ইসলামের নামে শত শত বছর ধরে পালন করা হচ্ছে অথচ এর আলোচনা আল-কুরআনে নেই, সহীহ হাদীসেও নেই। অথচ আপনি দেখতে পাবেন যে, সামান্য নফল 'আমলের ব্যাপারেও হাদীসের কিতাবে এক একটি অধ্যায় বা শিরোনাম লেখা হয়েছে। *********************************************************************** শবে বরাত উদযাপনকারীদের দলিল ও তার জবাবঃ দলিল-১ অনেককে দেখা যায় শবে বরাতের গুরুত্ব আলোচনা করতে গিয়ে সূরা "দুখান" এর প্রথম চারটি আয়াত প্রমান হিসেবে দেখান। আয়াতসমূহ হলঃ حٰمٓ ﴿ۚۛ۱﴾ وَ الۡکِتٰبِ الۡمُبِیۡنِ ۙ﴿ۛ۲﴾ اِنَّاۤ اَنۡزَلۡنٰهُ فِیۡ لَیۡلَۃٍ مُّبٰرَکَۃٍ اِنَّا کُنَّا مُنۡذِرِیۡنَ ﴿۳﴾ فِیۡهَا یُفۡرَقُ کُلُّ اَمۡرٍ حَکِیۡمٍ ۙ﴿۴ অর্থঃ হা-মীম। শপথ সুস্পষ্ট কিতাবের। আমিতো এটা অবতীর্ণ করেছি এক বরকতময় রাতে। আমি তো সতর্ককারী। এই রাতে প্রত্যেক প্রজ্ঞাপূর্ণ বিষয় স্থিরকৃত হয়। (সূরা দুখান, ১-৪) শবে বরাত পালনকারী আলেম উলামারা এখানে বরকতময় রাত বলতে ১৫ শাবানের রাতকে বুঝিয়ে থাকেন। আমি এখানে স্পষ্টভাবেই বলব যে, যারা এখানে বরকতময় রাতের অর্থ ১৫ শাবানের রাতকে বুঝিয়ে থাকেন তারা এমন বড় ভুল করেন যা আল্লাহর কালাম বিকৃত করার মত অপরাধ। কারণঃ- কুরআন মাজীদের সূরা আল-কদর এ আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেনঃ اِنَّاۤ اَنۡزَلۡنٰهُ فِیۡ لَیۡلَۃِ الۡقَدۡرِ ۚ﴿ۖ۱﴾ وَ مَاۤ اَدۡرٰىکَ مَا لَیۡلَۃُ الۡقَدۡرِ ؕ﴿۲﴾ لَیۡلَۃُ الۡقَدۡرِ ۬ۙ خَیۡرٌ مِّنۡ اَلۡفِ شَهۡرٍ ؕ﴿ؔ۳﴾ تَنَزَّلُ الۡمَلٰٓئِکَۃُ وَ الرُّوۡحُ فِیۡهَا بِاِذۡنِ رَبِّهِمۡ ۚ مِنۡ کُلِّ اَمۡرٍ ۙ﴿ۛ۴﴾ سَلٰمٌ ۟ۛ هِیَ حَتّٰی مَطۡلَعِ الۡفَجۡرِ ﴿۵ অর্থঃ আমি এই কুরআন নাযিল করেছি লাইলাতুল কদরে। আপনি জানেন লাইলাতুল কদর কি? লাইলাতুল কদর হল এক হাজার মাস অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ। এতে প্রত্যেক কাজের জন্য মালাইকা (ফেরেশ্তাগণ) ও রূহ (জিবরাঈল আঃ) অবতীর্ণ হয় তাদের পালনকর্তার নির্দেশে। এই শান্তি ও নিরাপত্তা ফজর পর্যন্ত অব্যাহত থাকে। (সূরা কাদর, ১-৫) অতএব বরকতময় রাত হল লাইলাতুল কদর। লাইলাতুল বরাত নয়। সূরা দুখানের লাইলাতুল মুবারাকার অর্থ যদি ''শবে বরাত'' হয় তাহলে এ আয়াতের অর্থ দাড়ায় আল কুরআন শাবান মাসে নাযিল হয়েছে । অথচ আল-কুরআন নাযিল হয়েছে রামাযান মাসে । যেমন আল্লাহ রাব্বুল 'আলামীন বলেনঃ شَهۡرُ رَمَضَانَ الَّذِیۡۤ اُنۡزِلَ فِیۡهِ الۡقُرۡاٰنُ অর্থঃ রমযান মাস, এ মাসে কুরআন নাযিল করা হয়েছে । (সূরা বাকারার, ১৮৫) দলিল-2 শাবান মাসের মধ্য রাত্রির ফযীলত বর্ণনা করতে গিয়ে এই জাল হাদীস টি বর্ণনা করা হয়ঃ আলী ইবনে আবী তালিব (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেনঃ “যখন শা‘বানের মধ্যরাত্রি আসবে তখন তোমরা সে রাতের কিয়াম তথা রাতভর নামায পড়বে, আর সে দিনের রোযা রাখবে; কেননা সে দিন সুর্যাস্তের সাথে সাথে আল্লাহ তা‘আলা দুনিয়ার আকাশে অবতরণ করেন এবং বলেনঃ ক্ষমা চাওয়ার কেউ কি আছে যাকে আমি ক্ষমা করব। রিযিক চাওয়ার কেউ কি আছে যাকে আমি রিযিক দেব। সমস্যাগ্রস্ত কেউ কি আছে যে আমার কাছে পরিত্রাণ কামনা করবে আর আমি তাকে উদ্ধার করব। এমন এমন কেউ কি আছে? এমন এমন কেউ কি আছে? ফজর পর্যন্ত তিনি এভাবে বলতে থাকেন”। ** হাদীসটি ইমাম ইবনে মাজাহ তার সুনানে বর্ণনা করেছেন।(১/৪৪৪, হাদীস নং ১৩৮৮) আল্লামা বূছীরি (রহঃ)) তার যাওয়ায়েদে ইবনে মাজাহ গ্রন্থে বলেন, হাদীসটির বর্ণনাকারীদের মধ্যে ইবনে আবি সুবরাহ রয়েছেন যিনি হাদীস বানাতেন। (২/১০) *** মুলত সহীহ হাদীসে সুস্পষ্ট এসেছে যে, “আল্লাহ তা‘আলা প্রতি রাতের শেষাংশে - শেষ তৃতীয়াংশে- নিকটবর্তী আসমানে অবতীর্ণ হয়ে আহবান জানাতে থাকেন ‘এমন কেউ কি আছে যে আমাকে ডাকবে আর আমি তার ডাকে সাড়া দেব? এমন কেউ কি আছে যে আমার কাছে কিছু চাইবে আর আমি তাকে দেব? আমার কাছে ক্ষমা চাইবে আর আমি তাকে ক্ষমা করে দেব?” [বুখারী, হাদীস নং ১১৪৫, মুসলিম হাদীস নং ৭৫৮] যেখানে একই বিষয়ে সহীহ হাদিসের বক্তব্য বিরুদ্ধে যায়, তারপর সেই বানোয়াট হাদিসের উপর আমল করা নিশ্চিত হারাম । দলিল-3 শাবান মাসের মধ্য রাত্রির ফযীলত বর্ণনা করতে গিয়ে এই হাদীস টিও বর্ণনা করা হয়ঃ আয়েশা (রাঃ) বলেনঃ এক রাতে আমি রাসূল (সাঃ) কে খুঁজে না পেয়ে তাঁকে খুঁজতে বের হলাম, আমি তাকে বাকী গোরস্তানে পেলাম। তখন রাসূল (সাঃ) আমাকে বললেনঃ ‘তুমি কি মনে কর, আল্লাহ ও তাঁর রাসূল তোমার উপর জুলুম করবেন?’ আমি বললামঃ ‘হে আল্লাহর রাসূল! আমি ধারণা করেছিলাম যে আপনি আপনার অপর কোন স্ত্রীর নিকট চলে গিয়েছেন। তখন রাসূল (সাঃ) বললেনঃ ‘মহান আল্লাহ তা’লা শা‘বানের মধ্যরাত্রিতে নিকটবর্তী আসমানে অবতীর্ণ হন এবং কালব গোত্রের ছাগলের পালের পশমের চেয়ে বেশী লোকদের ক্ষমা করেন। ** হাদীসটি ইমাম আহমাদ(রহঃ) তার মুসনাদে বর্ণনা করেন (৬/২৩৮), ** তিরমিযি(রহঃ) তার সুনানে বর্ণনা করে বলেন, এ হাদীস সম্পর্কে ইমাম বুখারী(রহঃ) কে দুর্বল বলতে শুনেছি।(২/১২১,১২২) উল্লিখিত আলোচনায় এটা স্পষ্ট যে, শা‘বানের মধ্যরাত্রির ফযীলত বিষয়ে যে সব হাদীস বর্ণিত হয়েছে তার সবগুলোই দুর্বল অথবা বানোয়াট, আর তাই এগুলো অগ্রহণযোগ্য । দুর্বল বা জাল হাদীসের উপর ভিত্তি করে ইসলামী শরীয়তে কোন আকীদাহ ও আমল চালু করা যায় না। কারণ- রসুল (সাঃ) বলেনঃ “যে ব্যক্তি দ্বীনে এমন কিছু শুরু করল যা আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয়, তবে তা প্রত্যখ্যান করা হবে”. [বুখারি ২৬৯৭, মুসলিম ১৭১৮] রসুল (সাঃ) আরো বলেনঃ “সর্বাপেক্ষা উত্তম বানী হল আল্লাহর, সর্বাপেক্ষা উত্তম পথনির্দেশ হল তাঁর রসুলের আর সর্বাপেক্ষা খারাপ কাজ হল নব উদ্ভাবিত বিষয় গুলো (বিদাত); সকল বিদাত ই পথভ্রষ্টতা” । (মুসলিম ৮৬৭) ********************************************************************* মুজতাহিদ্দের মতামতঃ ***শাইখ আব্দুল আজীজ ইবনে বায (রহঃ) বলেনঃ ইমাম আওযা‘য়ী (রহঃ) , এ রাতে ব্যক্তিগত ইবাদত করা ভাল মনে করেছেন, আর যা হাফেয ইবনে রাজাব পছন্দ করেছেন, তাদের এ মত অত্যন্ত আশ্চার্যজনক এবং দুর্বল; কেননা কোন কিছু যতক্ষন পর্যন্ত না শরীয়তের দলীলের মাধ্যমে জায়েয বলে সাব্যস্ত হবে ততক্ষন পর্যন্ত কোন মুসলিমের পক্ষেই দ্বীনের মধ্যে তার অনুপ্রবেশ ঘটানো বৈধ হবে না। চাই তা ব্যক্তিগতভাবে করুক বা সামষ্টিক- দলবদ্ধভাবে। চাই গোপনে করুক বা প্রকাশ্য। কারণ বিদ‘আত কর্ম অস্বীকার করে এবং তা থেকে সাবধান করে যে সমস্ত প্রমাণাদি এসেছে সেগুলো সাধারণভাবে তার বিপক্ষে অবস্থান নিচ্ছে। (আত্তাহযীর মিনাল বিদ‘আতঃ ১৩)। *** শাইখ আব্দুল আজীজ ইবনে বায (রহঃ) আরো বলেনঃ সহীহ মুসলিমে আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত হয়েছে, রাসূল (সাঃ) বলেছেনঃ “তোমরা জুম‘আর রাত্রিকে অন্যান্য রাত থেকে ক্বিয়াম/ নামাযের জন্য সুনির্দিষ্ট করে নিও না, আর জুম‘আর দিনকেও অন্যান্য দিনের থেকে আলাদা করে রোযার জন্য সুনির্দিষ্ট করে নিও না, তবে যদি কারো রোযার দিনে সে দিন ঘটনাচক্রে এসে যায় সেটা ভিন্ন কথা”। (সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১১৪৪, ১৪৮)। এবং যদি কোন রাতকে ইবাদতের জন্য সুনির্দিষ্ট করা জায়েয হতো তবে অবশ্যই জুম‘আর রাতকে ইবাদতের জন্য বিশেষভাবে সুনির্দিষ্ট করা জায়েয হতো; কেননা জুম‘আর দিনের ফযীলত সম্পর্কে হাদীসে এসেছে যে, “সুর্য যে দিনগুলোতে উদিত হয় তম্মধ্যে সবচেয়ে শ্রেষ্ট দিন, জুম‘আর দিন”। (সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৫৮৪) সুতরাং যেহেতু রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জুম‘আর দিনকে বিশেষভাবে ক্বিয়াম/নামাযের জন্য সুনির্দিষ্ট করা থেকে নিষেধ করেছেন সেহেতু অন্যান্য রাতগুলোতে অবশ্যই ইবাদতের জন্য সুনির্দিষ্ট করে নেয়া জায়েয হবে না। তবে যদি কোন রাত্রের ব্যাপারে সুস্পষ্ট কোন দলীল এসে যায় তবে সেটা ভিন্ন কথা। আর যেহেতু লাইলাতুল ক্বাদর এবং রমযানের রাতের ক্বিয়াম/নামায পড়া ইয়াবাদতের অন্তরভুক্ত সেহেতু রাসূল (সাঃ) থেকে এ রাতের ব্যাপারে স্পষ্ট হাদীস এসেছে। রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বহু সহীহ হাদীসে প্রমাণিত হয়েছে যে, তিনি শা‘বান মাসে সবচেয়ে বেশী রোযা রাখতেন। (এর জন্য দেখুনঃ বুখারী, হাদীস নং ১৯৬৯, ১৯৭০, মুসলিম, হাদীস নং ১১৫৬, ১১৬১, মুসনাদে আহমাদ ৬/১৮৮, সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং ২৪৩১, সহীহ ইবনে খুযাইমা, হাদীস নং ২০৭৭, সুনানে তিরমিঝি, হাদীস নং ৬৫৭) তাই শাবান মাসের রোজা রাখুন অথবা যদি কারও আইয়ামে বিদের নফল রোযা তথা মাসের ১৩,১৪,১৫ এ তিনদিন রোযা রাখার অভ্যাস থাকে তিনিও রোযা রাখতে পারেন। কিন্তু শুধুমাত্র শা‘বানের পনের তারিখকে নির্দিষ্ট করে রোযা রাখা কিংবা অন্য কোনো আমল করা বিদ‘আত হবে। কারণ শরীয়তে এ রোযার অথবা আমলের কোনো ভিত্তি নেই।